ঘুষ নেওয়ার অপরাধে বেনাপোলে দুই কাস্টমস সদস্য প্রত্যাহার

0
34

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে ভারত ফেরত দুই পাসপোর্ট যাত্রীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে কর্মরত দুই সদস্যকে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন জাহান।

প্রত্যাহারকৃত কাস্টমস সদস্যরা হলেন: কাস্টমস যাত্রী তল্লাশি কেন্দ্রের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহ জামাল ও সিপাহী আইয়ুব আলী।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহ জামাল ভারত ফেরত এক পাসপোর্টধারী যাত্রীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪ হাজার টাকা আদায় করেন। এছাড়া সিপাহী আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধেও ভারত ফেরত আর এক যাত্রীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে বেশ হৈ চৈ পড়ে যায়। ভুক্তভোগী পাসপোর্টধারী যাত্রী রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন জাহানের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি সিপাহী আইয়ুবের কাছ থেকে ঘুষের টাকা উদ্ধার করে ওইযাত্রীকে ফেরত দেন। পরে বিষয়টি তিনি কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করেন। যাত্রীর অভিযোগের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা মেলায় অভিযুক্ত দুইজনকে শাস্তিমূলক চেকপোস্ট কাস্টমস থেকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে যাত্রী হয়রানি আর ঘুষ বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে বিতর্ক বেড়েছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাস্টমস সদস্যরা সাধারণ যাত্রীর সামান্য কেনাকাটা থাকলে অর্থ আদায়ে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ এক শ্রেণির বহিরাগতরা লাখ লাখ টাকার আমদানিযোগ্য মালামাল ব্যাগেজ রুল তোয়াক্কা না করে ঘুষ বাণিজ্য করে আসছে। চেকপোস্ট কাস্টমস সদস্যরা ছেড়েও দিচ্ছেন।

গত ২৯ নভেম্বর বহিরাগতদের মাধ্যমে চেকপোস্ট কাস্টমসে ঘুষ বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শামিম হোসেন এবং আমিনুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবীরের প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

সচেতন মহল জানায়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তি শুধু প্রত্যাহারের মধ্যে সীমাবদ্ধতা রাখায় কোনোভাবে বেনাপোল কাস্টমসে ঘুষ আর অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না।

চেকপোস্ট কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন জাহান, মঙ্গলবার রাত ৯টায় জানান, পাসপোর্ট যাত্রীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে অভিযুক্ত কাস্টমস সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আসে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত শেষে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।