ঘটতে পারে মহাবিপর্যয়, ইউরোপ জুড়ে আতঙ্ক!

0
154

ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে ধেয়ে আসছে দাবানল। যদি এই দাবানলটি জ্বলতে জ্বলতে চেরনোবিলের দিকে যেতে থাকে তাহলে ইউরোপের জন্য চরম বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিবেশে বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ট্যুর অপারেটর ইয়ারোস্লাভ ইমেলিয়েনকো বলেছেন, দাবানাল এরই মধ্যে প্রিয়াপিতের পরিত্যক্ত শহরে পৌঁছে গেছে। যেখানে ১৯৮৬ সালের কুখ্যাত পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটেছিল। এতে ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চল জুড়ে তেজস্ক্রিয়তার মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল।

তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। অঞ্চলটি এখনো জ্বলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু আসলে আগুন দ্রুত নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। দাবানলটি মাত্র দু’ কিমি দূরে যেখানে সবচেয়ে বিপজ্জনক পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

উত্তর ইউক্রেনের ‘এক্সক্লুশন জোনে’ স্থানীয় জনগণ প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে এপ্রিলের ৪ তারিখে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আর বর্তমানে চারদিক আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। বিপজ্জনক পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণ করে রাখার জায়গা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে রয়েছে দাবানল।

দাবানল নেভাতে দেশটির দমকল বাহিনীর তিনশ সদস্য কাজ করছেন। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে পৌঁছে যাওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বলে আশা করছেন। তবে তাদের চেষ্টায় বাগড়া দিচ্ছে তীব্র বাতাস। আর এই বাতাসই সবচেয়ে বেশি ভয় ধরাচ্ছে। বাতাসই পারমাণবিক বর্জ্যের তেজস্ক্রিয়তা পৌঁছে দিতে পারে দেশটির রাজধানী কিয়েভে।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলো দাবনলটি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ আগুন মাটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা বের করবে। আর তা বাতাসের সাহায্যে ছড়িয়ে দেবে। গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে বলে তারা শঙ্কা করছেন। কিন্তু ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার হুমকির বিষয়টিকে এড়িয়ে চলছে। কিয়েভ বলছে, এই দাবানলটি এক্সক্লুশন জোনের মাত্রা অতিক্রম করে না।

এক্সক্লুশন জোন ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত ইউক্রেনের স্টেট এজেন্সির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ক্যাটরায়না পাভলোভা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছেন, আগুনের মধ্যে যে তেজস্ক্রিয়তা রয়েছে তা বলতে পারবো না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে খনন কাজ করা হচ্ছে। আগুন ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে দাবানল কবলিত এলাকায় ‘পানিবোমা’ নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।