Bangladesh News Network

ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ ভাগ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাই সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুবিধা পাননি

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ৯৫ ভাগ উদ্যোক্তা

0 3,461

করোনা কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুরো বিশ্ব। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ ভাগ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাই সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কোনো সুবিধা পাননি। আর এখনো করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ৯৫ ভাগ উদ্যোক্তা।

এ তথ্য উঠে এসেছে গবেষণা সংস্থা- পলিসি এক্সচেঞ্জের পরিসংখ্যানে। প্রণোদনা প্যাকেজ পুরোপুরি কার্যকর করতে শক্তিশালী তথ্যভন্ডার তৈরির তাগিদ বিশ্লেষকদের।

এসএমই খাতসহ অন্যান্য খাতের করোনার প্রভাব, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পরিসংখ্যা করেছে গবেষণা সংস্থা দুটি। তাদের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে- করোনার কারণে ৬৬ ভাগ রাজস্ব কমেছে এসএমই খাতের। সরকার এ খাতের সহায়তায় ২৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করলেও কাঠামোগত জটিলতার কারণে ব্যাংকগুলো এই প্যাকেজের আওতায় খুব বেশি ঋণ বিতরণ করেনি। ফলে ৮৩ ভাগ এসএমই উদ্যোক্তাই প্রণোদনা প্যাকেজের সহায়তা পায়নি।

এবিষয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের সভাপতি মাসরুর রিয়াজ জানান, করোনার প্রভাব থাকা স্বত্ত্বেও অর্থনীতি অনেক ভালো অবস্থানে আছে। কিন্ত আমাদের জনগনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত যে এসএমই খাত সেটি এখনও ঘুরে দাড়াতে পারেনি। এসএমই খাতের জন্য নেয়া উদ্যোগও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

এদিকে এফবিসিসিআই এর সভাপতি জসিমউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণ চাওয়ার সময় বাড়াতে আবেদন করেছি। আশাকরি অন্য সবসময়ের মতো এবারও তারা আমাদের পাশে থাকবে।

শক্তিশালী তথ্য ভান্ডার না থাকায় প্রণোদনা প্যাকেজ শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আসছে অর্থবছরেও ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা প্রণোদনার পরামর্শ অর্থনীতিবিদের।

তবে সিপিডি সম্মানীয় ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন, একটি কার্যকর ত্রুটিছাড়া তথ্যভান্ডার এখন খুবই সময় উপযোগী চাহিদা। এ কাজে টেলিকম খাতে ডাটাবেজ আমাদের সহায়তা করতে পারে।

এমএসই খাতের প্রণোদনা বিতরণের বিষয়টি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। পাশাপাশি আরো নতুন প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছি আমার। আশা করি এই প্যাকেজ অনেক বেশি কার্যকরর হবে। আমরা একেবারে সবাইকে এই প্যাকেজের আওতায় আনার চেষ্ঠা করছি।

এসএমইখাতকে এগিয়ে নিতে কর হার কমানোর পাশাপাশি দ্রত ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারিতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতে ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। প্রণোদনা প্যাকেজের মোট অর্থের পরিমাণ হলো ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৩শ ৩ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাস মহামারি কবে শেষ হবে সেটি এখনো কেউ বলতে পারছেন না। এ অবস্থায় সরকারি প্রণোদনা বা নগদ আর্থিক সহয়তার যে প্যাকেজই হোক তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন না হলে সমাজে বৈষম্য আরো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: