‘কেউ কথা শুনে না, কেউ কথা বলে না: ম্লান হচ্ছে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ

0
115

তিন হাসপাতালে রাতভর ছোটাছুটি। ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্স আর রিকশায় বিশেষ সুরক্ষা ছাড়াই রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরেছেন এক গর্ভবতী নারীসহ চার করোনা রোগী। অবশেষে হাসপাতালে ঠাঁই মিললেও, চিকিৎসা মেলেনি। এমন অব্যবস্থাপনায় সংক্রমণের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি ম্লান হয়ে যাচ্ছে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ। এমন মত বিশেষজ্ঞের।

‘কেউ কথা শুনে না, কেউ কথা বলে না শুধু রুমের ভেতরে আটকে রেখেছে। আমাদের কাগজটা দেন আমাদের কুর্মিটোলায় যেতে বলছে।’- রাত তখন দেড়টা, কয়েক ঘণ্টার ধকল শেষে করোনা আক্রান্ত এক গর্ভবতী নারীর আর্তনাদ কথাগুলো।

দেহে কোভিড-১৯ এর অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন এই নারীসহ আরো চারজন। ডিএমসি কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। অ্যাম্বুলেন্স তাদের নামিয়ে দেয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কুয়েত মৈত্রীতে। তারা একজনকে রেখে বাকি চারজনকে ফেরত পাঠান ।

ততক্ষণে চলে গেছে ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্স। নানা জটিলতা আর অরক্ষিত অবস্থায় ঘুরেফিরে আবারও তারা যান ডিএমসিতে।

ভুক্তভোগী ঐ গর্ভবতী নারী বলেন, ‘ড্রাইভার বলছে সিট নাই আপনাদের এখানেই রাখবে। এটা বলে উনি আমাদের নামিয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে গেছে। তারপর কাগজ জমা দিলে বলছে আমাদের রাখবে না। এরপর আবার কুয়েত মৈত্রী গেছি সেখানে বলে সিট নাই।’

এরও কয়েক ঘণ্টা পর সময় সংবাদের হস্তক্ষেপে ও একজন চিকিৎসকের সহায়তায় তারা ভর্তি হন কুর্মিটোলায়। ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়, প্রতিবেদনটি লেখা হয় সকাল আটটায়, সে পর্যন্ত জোটেনি চিকিৎসাও।

ভুক্তভোগী ঐ নারী বলেন, ‘ভর্তি হইছি কিন্তু কোনো ডাক্তার আসেনি। একটা বেডশিট দিয়ে নার্সরা বলেন শুয়ে থাকেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দুর্যোগে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়। স্বাস্থ্য বিভাগের অদক্ষতায় ম্লান হয়ে যেতে পারে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ।

মেডিসিন বিশিষজ্ঞ রিদওয়ানুর রহমান বলেন, চিকিৎসা খাতের ব্যবস্থাপনায় একটা পরিবর্তন আনা দরকার। তা না হলে চিকিৎসকরা দোষী হবেন। রোগীরাও কষ্ট পাবেন।

এদিকে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।