কৃষকের ধান কাটতে ছাত্রলীগের ‘হেল্প ডেস্ক’:টংগী ও মানিকগঞ্জে ধান কেটে দিল ছাত্রলীগ

0
110

যারা টাকা কিংবা শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান কাটতে পারছেন না তাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করেছে কক্সবাজার ছাত্রলীগ। বুধবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রলীগ এই কার্যক্রম চালু করেন। হেল্প ডেস্কেও নাম্বারগুলো হলো: আবু হেনা বিশাদ (০১৮৩৩-৫৭৩২০৮), ইরফানুল করিম (০১৮২২-২৪২৪২৮), কাজী আবদুল্লাহ (০১৮১৫৮১৯৮০৪) ও হুমায়ূন আবরার সামি (০১৮৬৫৯৬২৮৩৫)।

ঈদগাহ সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এরফানুল করিম বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে অসহায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়া কর্মসূচি নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম গজালিয়া খালেদা বেগম নামের এক নারী শ্রমিকের অভাবে তার পাঁকা ধান কাটতে পারছিলেন না। এরপর খবর পাওয়া যায় ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ বুধবার দিনব্যাপী প্রায় ১ বিঘা পাকা ধান কাটি ঈদগাহ সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতাকর্মী। এরপর বিকেলে সেই ধানগুলো কেটে ঘরে তুলে দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে সত্যিই খুবই খুশি লাগছে। ওই নারী খুশি দেখার পর ঈদগাহ সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু হেনা বিশাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আবদুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ূন আবরার সামি ও আমি একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নিই একটি হেল্প ডেস্ক চালু করার। পরে বুধবার বিকেলে সিদ্ধান্ত নেয়া পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হেল্প ডেক্সের নাম্বারগুলোর মাধ্যমে প্রচারনা চালায়। তারই ফলশ্রুতিতে অসহায় ও শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছেন এমন বেশ কয়েকজন যোগাযোগ করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে আবারও ধান কাটা কার্যক্রম চলবে। এই হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কৃষকরা ছাত্রলীগের এই সুবিধা পাবেন।

ঈদগাহ সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু হেনা বিশাদ বলেন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশ দিয়েছে কৃষকদের পাশে থাকতে। ছাত্রলীগ যেকোনো মানবিক সঙ্কটে সাধারণ মানুষের পাশে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় অসহায় কৃষকদের পাশে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এর পাশাপাশি কৃষকরা যাতে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে তারজন্য হেল্প ডেস্ক চালু করি।

তিনি বলেন, বুধবার ওই নারী বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, আমরা বিনা পারিশ্রমিকে তার ধান কেটে ঘরে তুলে দেব। পরে যখন তার জমির ধান কেটে বাড়িতে এনে দিলাম তার মুখের হাসি আমাদের অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই নেই। এই দুঃসময়ে প্রত্যেকের উচিত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো।

টংগী:

টংগী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মঞ্জুর উদ্যোগে কৃষকের ৩ বিঘা জমির পাকাধান কেটে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ ভোর থেকে টংগীর ৫০নং ওয়ার্ডের চাংকিরটেক বিলে কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এই ধানকাটা হয়।

জমির মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, করোনা মহামারির কারণে আমি ৫ দিন ধরে বিভিন্ন ভাবে ধানকাটার কৃষক খুঁজে না পেয়ে কাজী মঞ্জুর কাছে বিষয়টি খুলে বলি। তখন কাজী মঞ্জু আমাকে তার ৩ বিঘা জমির ধানকেটে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

কৃষক বলেন, আজ ভোর হতে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে আমার জমির ধান কাটা শুরু করেছে বিকালের মধ্যে ধান বাড়িতে পৌঁছে যাবে। এ বিষয়ে কাজী মঞ্জু জানান, আমার এই বিলে দুই শতাধিক কৃষকের ধানক্ষেত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবার ধানই টংগী কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় কেটে কৃষকের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হবে। বর্তমান মহামারিতে আমরা কৃষকের পাশে আছি।

মানিকগঞ্জ:

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে যখন ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, ঠিক তখন কৃষকের লোকসান কমানোর জন্য গবিব কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক কাজী জুনায়েদ হোসেন প্রতীকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২৫ জন ছেলে ধান কাটার কাজে অংশ নেন।

এ সময় তারা গিলন্ড গ্রামের কৃষক সমশের মিয়ার ত্রিশ শতাংশ জমির ধান কেটে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। ছাত্রলীগ নেতা জোনায়েদ হোসেন প্রতীক বলেন, করোনার এই লকডাউনে কৃষক সমশের মিয়া কোথাও ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছিলেন না। করোনা পরিস্থিতি অবনতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই কৃষি বান্ধব নির্দেশনায় আমরা জেলা ছাত্রলীগ কৃষকের সাথে মাঠে এসে কাজ করছি আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কৃষক সমশের মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ধান কাটার জন্য কোনো শ্রমিক পাচ্ছিলাম না। মাঠে পাকা ধানগুলো নষ্ট হওয়ার পথে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম এই ভাইয়েরা সারাদিন কষ্ট করে আমার জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়াও এই করোনার সময় কোন মানুষ মারা গেলেও লোক পাওয়া যায় না, অার অামার পাশে এই ভাইদের পেয়েছি, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।