Bangladesh News Network

কারাগারে ঈদ মানেই ভিন্ন উদযাপন

0 5,902

ঈদের জন্য কোরবানির পশু কেনা, গরুর হাটে যাওয়ার ঝক্কি, নতুন জামা জুতোর বালাই নেই। আছে শুধু দেওয়াল বন্দি ১৯৫ একর এলাকা। এটাই এখন ছোট্ট পৃথিবী তাদের কাছে।

তবু জীবন গতিময়। ইচ্ছা অনিচ্ছায় এক সময় জড়িয়েছেন নানা অপরাধে। এখন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা খাটছেন কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

তবু ঈদের দিনটা একটু ভিন্ন তাদের কাছে। প্রতিদিনের মেন্যু পাল্টে সকালের নাস্তায় পায়েস, মুড়ি; দুপুরের খাবারে পোলাও, গরু-খাসির মাংস, মিষ্টি, পানসুপারি, কোমল পানীয় আর রাতে দেওয়া হয় মাছ, সবজি ও ভাত। অন্য দিনের চেয়ে তাই নতুন রূপে ঈদের আনন্দ ধরা দেয় কারাবন্দিদের জীবনে।

বন্দিরা জানান, ঈদের দিন অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় অনেক ভালো। এদিন অন্যান্য লোকদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়। ডিপ্রেশনে থাকি, তবে কারাগারের সহায়তায় কিছুটা হলেও কমাতে পারি।

মুক্ত জীবনের স্বাদ নেই, নেই পরিবার-স্বজন। কারাগারে ঈদ মানেই ভিন্ন উদযাপন। কেউ কেউ এখানকার মানুষকেই পরিবার মনে করছেন। তাদের সাথেই ভাগাভাগি করেছেন আনন্দময় অনুভূতি।

তবু দুঃখ রয়ে যায়। পরিবারের সদস্য প্রিয় মানুষগুলো নেই। টেলিফোনে কথা বললেও করোনার কারণে এবার তারা সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাননি। পরিবারহীন বন্দিজীবন তাই যেন একরাশ বেদনার নাম।

এক বন্দি স্মৃতিচারণ করে বলেন, বাড়িতে থাকতে ঈদের দিন সকালে মা পায়েস রান্না করে দিতো, খেয়ে নামাজ পড়তে যেতাম। সে দিনগুলো খুব করে মনে পড়ে। ৭ বছর ধরে জেলখানায় রয়েছি, এখানকার অনেকেই পরিবারের মতো হয়ে গেছেন।

বন্দিদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। করোনার কারণে অন্যবছরগুলোর মতো এবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়নি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, সরকার কারাগার গুলোকে সংশোধনাগারে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। আমরাও সেভাবে চেষ্টা করছি। সে কারণে কারাগারে এখন নানা রকম বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে কারাগারটিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার বন্দি রয়েছে।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: