Bangladesh News Network

কারফিউ দিলে মানুষ না খেয়ে মারা যেতে পারে: এ বি এম আব্দুল্লাহ

0 7,758

দেশে কঠোর লকডাউন চলছে কিন্তু মানুষের চলাফেরা বা জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে দেশের মানুষ কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কর্মসূচিগুলো ভয় পায় এবং প্রতিপালনের চেষ্টা করে।

মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসরোধে দেশে কারফিউ বা ১৪৪ ধারা জারির পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল এনসিডিসি পরিচালক ও অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ পরামর্শ দেন।

তবে, কারফিউ জারি করা হলে দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিম্নআয়ের মানুষ এখনই খাবার কষ্টে আছে। লকডাউনের সময় যত গড়াবে তারা খাদ্য সংকটে পড়বে। এরমধ্যে কারফিউ জারি করা হলে তা হিতে বিপরীত হবে।

প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম কারফিউ জারিকে কোনো মতেই সমর্থন করছেন না। এটিকে পরিনামদর্শী উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষকে অভাবে রেখে আটকে রাখা যাবে না। তারা যখন খাবারের জন্য রাস্তায় বের হবে তখন কি গুলি করে মেরে ফেলা হবে? এটা তো কোনোভাবেই সম্ভব না। কারণ খাবারের অভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই অনেকেই মারা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ভাইরোলজিক্যাল অনেক প্রত্যাশা আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন না করে কারফিউর এর কথা চিন্তা করা হচ্ছে। সবকিছুর আগে ভাইরোলজিক্যাল চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে। শতভাগ মানুষকে মাস্ক পরাতে অভ্যস্ত করতে হবে। সর্বাধিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং কেউ আক্রান্ত হলে তাকে আইসোলেশনসহ সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে হবে। আইসোলেশনে থাকা রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি পাড়া-প্রতিবেশীদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাদের বাজার করে দিতে হবে। তাহলেই করোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

একই মত পোষণ করছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, কারফিউর নিয়ম হলো, কেউ বের হলে গুলি করে মেরে ফেলতে হবে। তাহলে যারা না খেয়ে থাকবে তারা কী করবে? কারফিউ দিলে দুই-আড়াই কোটি মানুষ না খেয়ে থাকবে। ফলে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া ব্যবস্থা থাকতে হবে। আরামে ঘরে বসে মুখে কারফিউর কথা বলা সহজ। বাস্তবতা কঠিন বলেই মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।

এর আগে গত ১ জুলাই থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিধিনিষেধ ‘কঠোর’ই করার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করার কথা বলে পুলিশও। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীও। এরপর ৫ জুলাই বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: