করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মোংলা ইপিজেডের ৯ কারখানা চালু

0
81

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মোংলা ইপিজেডের বিভিন্ন রফতানিপণ্য তৈরির কারখানা ফের চালু হয়েছে। কারখানাগুলোর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই এখানকার শ্রমিকরা কাজ করছেন। করোনার ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে শ্রমিকরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন তারা।

২৬ এপ্রিল ও ২৭ এপ্রিল মোংলা ইপিজেডে ৯টি কারখানা খুলে দেওয়া হয়। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোংলা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহাবুব আহম্মেদ সিদ্দিক। তিনি জানান, ২৭টি ফ্যাক্টরির মধ্যে ৯টি খুলে দেওয়া হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে, পিএ অ্যান্ড পিএ, জিন লাইট গার্মেন্টস, ওয়া জিয়াং জুট, ওয়াশিং জুট, হ্যানসিং পেপার, জি এল গ্রেপ, কোতুবোগি বাংলাদেশ, স্টার্ন পলিমার এবং মুন স্টার পলিমার। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি কারখানা খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জিএম মাহাবুব আহম্মেদ সিদ্দিক আরও বলেন, এসব কারখানায় মোট এক হাজার ৬২ জন শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একজন চিকিৎসকসহ সাত সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন হরা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স খুলে দেওয়া ফ্যাক্টরির কর্মীদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।

তবে আমির হোসেন ইসা নামে এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, করোনা ভাইরাসের মধ্যে ফ্যাক্টরি খুলে দেওয়ায় আমরা ঝুঁকিতে পড়েছি। তবু এই পরিস্থিতির মধ্যেই চাকরিচ্যুত হওয়ার ভয়ে আমরা ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেছি।

অন্যদিকে ইপিজেডের জিন লাইট গার্মেন্টসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হৃদয় মাহমুদ দাবি করেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তারা ফ্যাক্টরি খুলে দিয়েছেন। তবে কোনও শ্রমিককে চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে বা জোরপূর্বক কাজে নেওয়া হচ্ছে না।

স্টার্ন পলিমারের ম্যানেজার (উৎপাদন) মো. আল-মামুন জানান, তারা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করাচ্ছেন। তাদের ফ্যাক্টরিতে ১৪১ জন শ্রমিক এরই মধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে বেপজা’র মহাব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর জানান, মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থে করোনা দুর্যোগের মধ্যেও মোংলা ইপিজেডের ৯টি ফ্যাক্টরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ফ্যাক্টরির মালিক পক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরির মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, মোংলা ইপিজেডে মোট ৬ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এই শ্রমিকরা সবাই মোংলা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা রামপালের বাসিন্দা। তাই করোনা ঝুঁকি নেই বললেই চলে বলে দাবি করেন তিনি। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২৫ শতাংশ শ্রমিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে ফ্যাক্টরিতে কাজ করার বিধান রেখেই ইপিজেড চালু রাখা হচ্ছে।

এদিকে করোনা ঝুঁকির এই অবস্থায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের প্রবেশ, সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা পুরোপুরি নিশ্চিত করা না গেলে সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।