করোনা ঝুঁকিতে গাইবান্ধা : তারপরও হুঁশ নেই মানুষের

0
50

পাঁচজন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ওঠে গাইবান্ধার নাম। এরই মধ্যে মরার উপর খরার ঘা হয়ে সড়কও নৌপথে ঢুকে পড়ছে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন জেলার মানুষ।

কিন্তু তারপরও হুঁশ নেই জেলার মানুষের। বিভিন্ন জায়গায় উপচে পড়ে ত্রাণ নিতে দেখা গেছে দরিদ্র মানুষকে। এমন পরিস্থিতিতে গাইবান্ধাকে লকডাউনের দাবি উঠলেও তা মানতে নারাজ জেলা প্রশাসক।

ও এমএসের চাল সংগ্রহের এই ছবি গাইবান্ধা শহরের জুবলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা মারাত্মক সেখানকার পরিস্থিতি। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের কোনো নির্দেশনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরাও ঝুঁকির মুখে।

একজন বলেন, মাস্ক টা নিয়ে আসি না। কারণ আমার মনে ছিল না। এখানে আসার পর আমার মনে পড়ল।
আরেকজন বলেন, আমাদের গাইবান্ধায় মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তা শুধু বাজার-রাস্তায় বের হলেই দেখা যায়।

এক পুলিশ সদস্য বলেন, এখানে কেউ আমাদের কথা শুনছেন না।
এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ থেকে গাইবান্ধাবাসীকে বাঁচাতে লকডাউনের বিকল্প নেই বলে জানান চিকিৎসক ও সচেতন মহল।

রংপুর স্বাস্থ্য সাবেক বিভাগীয় পরিচালক ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, লোকজন বাইরের জেলা থেকে মানুষগুলো আসে। দেখা যাচ্ছে দিন দিন এই এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত লকডাউন ছাড়া উপায় নেই।

গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, অসহায় ও গরীব মানুষদের খাদ্য সহায়তা দিতে হবে। এবং জরুরি ব্যবস্থা করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য জরুরি লকডাউন করা উচিত।

এদিকে সিভিল সার্জন কঠোরভাবে মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও জেলা প্রশাসক এখনো বলছেন লকডাউনের প্রয়োজন নেই।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, একটা পরিবারেরই করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এবং তাদের কঠোর ভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর বাইরে যেহেতু কোন আক্রান্ত নেই। তাই এখন লকডাউনের চিন্তা করছি না।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য মানুষের গতিবিধি কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার উচিত।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জসহ করোনা সংক্রমিত বিভিন্ন জেলা থেকে গাইবান্ধায় আসা প্রায় দেড়শ মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে প্রশাসন।