করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়ালো

0
105

বিএনএন টিভি, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ

করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। ভাইরাস মোকাবিলায় দেশে দেশে চলছে লকডাউন, জরুরি অবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ। এর মধ্যে করোনায় সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৬৭ হাজার ৪৪৮ জন। পুরো বিশ্বে মারা যাওয়া মানুষের এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ১ হাজার ৬৯১ জন।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১১ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৮ জন। পুরো বিশ্বে আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৭৪৪ জন। চিকিৎসা নিয়ে করোনা মুক্ত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৫ জন।

দেশটিতে এই মুহূর্তে করোনা রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ১৯ হাজার ৬৬৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯ লাখ ৩ হাজার ১৯০ জন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর বাকি ১৬ হাজার ৪৭৫ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিউ ইয়র্কে। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ২১৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২৪ হাজার ৩৬৮ জন।

এদিকে মার্কিন শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের প্রধান ড. অ্যান্থনি ফসি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ করোনায় মারা যেতে পারে। এর আগে অবশ্য তিনি দেড় লাখ থেকে দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ড. ফসির প্রথম পূর্বাভাসের দিকেই দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে কিনা।

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৩ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১১ লাখ ২৪ হাজার ২৯০ জন। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বে ২১ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৮৯ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৫০ হাজার ৮৬১ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৪, মারা গেছে ৬৭ হাজার ৪৪৪ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে। পুরো বিশ্বে মারা যাওয়া মানুষের এক-চতুর্থাংশ এবং আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্রে।

এ ছাড়া, যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬৭, মারা গেছে ২৫ হাজার ১০০ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ৯ হাজার ৩২৮, মারা গেছে ২৮ হাজার ৭১০ জন। ইংল্যান্ডে আক্রান্ত ১ লাখ ৮২ হাজার ২৬০, মারা গেছে ২৮ হাজার ১৩১ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৬, মারা গেছে ২৪ হাজার ৭৬০ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৭, মারা গেছে ৬ হাজার ৮১২ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৫, মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩৬ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪, মারা গেছে ১ হাজার ২২২ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ৯৭ হাজার ১০০, মারা গেছে ৬ হাজার ৭৬১ জন। ইরানে আক্রান্ত ৯৬ হাজার ৪৪৮, মারা গেছে ৬ হাজার ১৫৬ জন।

এদিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৮৭৭, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৩ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৭১৪, মারা গেছে ৩ হাজার ৫৬৬ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৪৯ হাজার ৫১৭, মারা গেছে ৭ হাজার ৭৬৫ জন। পেরুতে আক্রান্ত ৪২ হাজার ৫৩৪, মারা গেছে ১ হাজার ২০০ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৪০ হাজার ২৩৬, মারা গেছে ৪ হাজার ৯৮৭ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৮১৭, মারা গেছে ১ হাজার ৭৬২ জন। ইকুয়েডরে আক্রান্ত ২৭ হাজার ৪৬৪, মারা গেছে ১ হাজার ৩৭১ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত ২৫ হাজার ১৯০, মারা গেছে ১ হাজার ২৩ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ২২ হাজার ৮৮, মারা গেছে ২ হাজার ৬১ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ২২ হাজার ৮২, মারা গেছে ২ হাজার ৬৬৯ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২১ হাজার ১৭৬, মারা গেছে ১ হাজার ২৮৬ জন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ৩৯ হাজার ৬৯৯, মারা গেছে ১ হাজার ৩২৩ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ১৯ হাজার ১০৩, মারা গেছে ৪৪০ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ৮ হাজার ৭৯০, মারা গেছে ১৭৫ জন।

প্রসঙ্গত, এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, বারবার কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং হঠাৎ করে স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।