করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারীর মৃত্যু

0
214

মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডেস্কঃ

করোনায় চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথম মৃ’ত্যু! মা’রা যাওয়া ক’র্মচারী করোনা আ’ক্রান্ত ছিলেন। গত মঙ্গ’লবার রাতে চট্টগ্রাম মেডি’কেল কলেজ হা’সপাতালে ওই কর্মচারী মা’রা যান। এরপরই ন’মুনা নেওয়া হয়। বুধবার রাতে তাঁর করোনা শ’নাক্ত হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ব’ন্দর কর্মচা’রীদের মাঝে এই খবর ছ’ড়িয়ে পড়লে আতং’কিত হয়ে পড়েন বন্দরের ‘ওয়ান স্টপ শাখার’ কর্মচারীরা। তাঁরা স্বাস্থ্য’সুর’ক্ষার দা’বিতে ওই শাখায় প্রায় তিন ঘণ্টা কাজ ব’ন্ধ রাখেন। পরে উ’র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আ’শ্বাসে কাজে যোগ দেন কর্মচারীরা।

মা’রা যাওয়া বন্দর ক’র্মচারী আবদুল হালিম (৫৬) বন্দরের ওয়া’নস্টপ শাখায় বিল ক্লার্ক হিসেবে ক’র্মরত ছিলেন। তিনি সর্ব’শে’ষ শনিবার অফিস করেন। তার সংস্পর্শে আসা বন্দরের আট কর্মচারীকে বৃহস্পতিবার কো’য়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। নি’হত আবদুল হালিমের বাড়ি ঝালকাঠিতে। তিনি চট্টগ্রাম হা’লিশহর আবাসিক এলাকার এইচ ব্লকে থাকেন। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে।

মৃ’ত কর্ম’চারী ছেলে আজমল হাসিব বলেন, ১ মে তাঁর বাবার শরীরে জ্ব’র আসে। পরদিন তিনি অফিস করেন। রোববার অসু’স্থবোধ করলে বন্দর হাস’পাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে চিকি’ৎসকেরা ওষুধ দেন। তারা করোনা রো’গীদের জন্য নির্ধারিত হাস’পাতালে যো’গাযোগ করার পরা’মর্শ দেন। এরপর সোম’বার তারা ক’রোনা প’রীক্ষা করানোর চে’ষ্টা চালান। তিনদিন পর ন’মুনা সং’গ্রহ করা হবে বলে তাঁদের জা’নানো হয়।

হাসিব জানান, মঙ্গলবার রাতে তার বাবার শা’রীরিক অবস্থার অ’বনতি হলে অ্যা’ম্বুলেন্স ডেকে চট্টগ্রাম মে’ডিকেল কলেজ হাস’পাতালে নিয়ে যান তারা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃ’ত ঘো’ষণা করেন। তিনি জানান, চিকিৎসকেরা প্রথমে হা’র্ট অ্যা’টাকে মৃ’ত্যু হয়েছে বলে জানায়। এরপরও তাদের অ’নুরোধে ন’মুনা নেওয়া হয়। বুধবার রাতে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ফোনে করোনা পরীক্ষার ফল পজি’টিভি এসেছে বলে জানানো হয়।

চট্ট’গ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ন’মুনা পরীক্ষায় আবদুল হালিমের করোনা প’জিটিভ শ’নাক্ত হয়েছে।

মা’রা যাওয়ার পর ক’রোনা নি’শ্চিত হওয়ার খবর নি’হতের সহকর্মীরা জানতে পারেন আজ বৃহস্পতিবার। এরপরই ওয়ান স্টপ শাখার কর্মচারীরা সু’রক্ষার দা’বিতে বি’ক্ষোভ শুরু করেন। বন্দরের সং’রক্ষিত এলাকায় অবস্থিত এই শাখায় প্রায় ১০০ জনের মতো কর্মচারী কাজ করেন। বন্দর থেকে পণ্য খালাসের ছাড়পত্র, বিল পরি’শোধসহ যাবতীয় কাজ এই শাখায় করা হয়। এই শাখায় পণ্য খালাসে যুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বা সেবা গ্রহীতাদের ভি’ড় সব’সময় লেগে থাকে। ফলে ঝুঁ’কিও বেশি।

বি’ক্ষোভ চলা’কালীন বন্দর পর্ষদের সদস্য জাফর আলম ঘ’টনাস্থলে যান। সব প’দক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপরই দুপুর একটার দিকে কাজ শুরু হয়।

বন্দরের পর্ষদ সদস্য জাফর বলেন, সেবা’গ্রহীতাদের ভি’ড় কমাতে ওয়ান স্টপ সেন্টারে লাইনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বন্দরের ফটকগুলোতে জী:বাণুনাশ’কসহ স্বাস্থ্যসুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এখন ওয়ান স্টপেও সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

সূত্র- প্রথম আলো