Bangladesh News Network

ওই বনে শুধু নারীরাই প্রবেশ করতে পারে

0 7,581

ওই বনে নারীদেরও অবশ্য প্রবেশের বেশ কিছু নিয়ম আছে। এখানে নারীরা সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে প্রবেশ করেন। পাপুয়ার রাজধানী জয়পুরার ক্যামপাং এনগ্রোসের মাঝামাঝি ওই ম্যানগ্রোভ বন ছড়িয়ে আছে প্রায় ৮ হেক্টর এলাকা জুড়ে।

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় এক ম্যানগ্রোভ বনে পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ। ওই বনে শুধু নারীরাই ঝিনুক সংগ্রহে প্রবেশ করতে পারে। বনটির নাম টোনোটিওয়াট। যার অর্থ ‘ফিমেল ফরেস্ট’ বা নারীদের অরণ্য।

ওই বনে যদি কোন পুরুষ উঁকিও মারেন, তাহলেও তাকে শাস্তি পেতে হবে। তবে এই বনে পুরুষেরা প্রবেশ করতে পারেন শুধু কাঠ সংগ্রহের জন্য। তবে তার আগে তাদের নিশ্চিত হতে হয় যে জঙ্গলে কোনো নারী নেই।

নারী থাকাকালীন যদি কোনো পুরুষ জঙ্গলে প্রবেশ করে ধরা পড়েন, তবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজাতি আদালতে। অপরাধ প্রমাণ হলে শাস্তির পাশাপাশি জরিমানাও দিতে হয় বলে জানান গ্রামের বাসিন্দা আদ্রিয়ানা মেরাউদজি।

তিনি জানান, জঙ্গলে প্রবেশ করার জন্য ১০ লাখ রুপাইয়া (স্থানীয় মুদ্রা) জরিমানা দিতে হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় পাঁচ হাজার টাকার কাছাকাছি। এই জরিমানার অর্থ সাধারণত চকচকে পাথরের বিনিময়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় নারী বাসিন্দা আতি রুমবয়রুসি জানান, ভাটার সময় তারা সবাই মিলে নৌকা নিয়ে বনে যান। বনে প্রবেশের পর থেকেই তারা স্বাধীন। কারণ, সেখানে কোন পুরুষ নেই। এজন্য সবাই মিলে খোলামেলাভাবেই গল্প করেন।

এই নিয়ম কবে থেকে চলে আসছে তা কেউ জানেন না। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা তাদের মা, দাদিদের কাছেও এই একই কাহিনি শুনেছেন। প্রচলিত কাহিনি থেকেই জেনেছেন- এই জঙ্গলের সঙ্গে স্থানীয়দের সখ্যতা না কি ১৮০৮ সাল থেকে।

নারীরা জানিয়েছেন, সমুদ্র লাগোয়া জঙ্গলের জলাভূমিতে নেমে ঝিনুক সংগ্রহ করেন মেয়েরা। কাদাজলে এবং গাছের শ্বাসমূলে পোশাক নষ্ট হতে পারে ভেবেই হয়তো চালু হয়েছিল পোশাক ছাড়ার নিয়ম।

ভাটার সময় কাঠের নৌকায় চেপে বেরিয়ে পড়েন তারা। সারা দিন বনেই থাকেন । লম্বাটে কাঠের ওই নৌকার নাম ‘কোলে কোলে। নৌকার ভেতরে থাকে তাদের দুপুরের খাবার। বনে ঝিনুক সংগ্রহ করতে পুরো দিন কেটে যায়। তাই দুপুরের খাবার সঙ্গে রাখেন তারা।

তবে নারীদের জন্য পবিত্র এই বনটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। ৫০ বছর আগে এটির যে আয়তন ছিল এখন তার অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে সাগর যেমন ছিল, সেটিও এখন বদলে গেছে। আগে সাগর অনেক সুন্দর ছিল, এখন ময়লা হয়ে গেছে। শহরের বাজারের ময়লাগুলো বৃষ্টিতে ধুয়ে এদিকে চলে আসে।

আদ্রিয়ানা মেরাউদজি অনেকটা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক সময় মনে করি আমাদের সাগরটার কী হলো? কিন্তু কোন কারণ খুজে পাই না। এখন ঝিনুক, ফলমূলের বদলে প্লাস্টিক বেশি খুঁজে পাই।’

দূষণের কারণে কমেছে ম্যানগ্রোভের জলাভূমির সম্পদও। আগে এক বেলাতেই তাদের কাঠের নৌকাটি সংগ্রহে ভরে যেত। এখন সারা দিন কাজ করেও অর্ধেক নৌকা ভরে না বলেও জানান স্থানীয় নারীরা।

তবে অগাস্টিনারা জানিয়েছেন, এর পরেও বনে আসার ঐতিহ্য ভুলবেন না তারা। পরের প্রজন্মকেও উৎসাহিত করবেন। কারণ বন তাদের একান্ত মুক্তির জায়গা। প্রয়োজনে এই বন বাঁচাতে যা করতে হয় তা-ই করবেন আগামী দিনে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: