Bangladesh News Network

এক বছরে ২০ হাজার ৬০০ কোটি কালোটাকা সাদা করার নতুন রেকর্ড

0 4,757

দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ পরিমাণে কালোটাকা সাদা করার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি কালোটাকা বৈধ বা সাদা হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার করদাতা কালোটাকা বৈধ করেছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই খাতে সব মিলিয়ে রাজস্ব পেয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

ডাক্তার, সরকারি চাকরিজীবী, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, ব্যাংকের স্পন্সর ডিরেক্টর, স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আরও অনেকে কালোটাকা সাদা করার তালিকায় আছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি ব্যাংকে রাখা বিভিন্ন আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র বা নগদ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থের ঘোষণা দিয়েছেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেয়ারবাজার, নগদ টাকা কিংবা জমি-ফ্ল্যাট কিনে সব মিলিয়ে ১১ হাজার ৮৫৯ জন কালো টাকা সাদা করেছেন। যারা প্রায় ২০৬০০ কোটি কালোটাকা বৈধ করেছেন। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই ১৪৫৫ জন ব্যক্তি ৬১৯ কোটি কালো টাকা সাদা করেছেন।

কালো টাকা বিনিয়োগকারীর মধ্যে ৭ হাজার ৫৫ জন ব্যাংকে রাখা বিভিন্ন আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র বা নগদ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা বৈধ করেছেন। তারা এক হাজার ৬৮৩ কোটি টাকার কর সরকারের কোষাগারে জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আইনগতভাবে বৈধ করেছেন।

তবে দেশের পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসেনি কালো টাকা থেকে। বছর শেষে এই খাতে মাত্র ২৪৬ জন বিনিয়োগকারী ৪০০ কোটি টাকা অর্থ বৈধ বা সাদা করেছেন। অন্যদিকে ৪ হাজার ৫১৮ ব্যক্তি জমি-ফ্ল্যাট কিনে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য থেকে জানা যায়, ‘ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির করদাতারা ভিন্ন ভিন্ন সম্পদের বৈধতা নিচ্ছেন। অনেক করদাতা তাদের আয়কর রিটার্নে এসব সম্পদের ঘোষণা দেবেন। তাই অনেকে আগেভাগেই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। আমাদের কর কর্মকর্তারা রিটার্নে তথ্য যাচাই-বাছাই করবেন। ভবিষ্যতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার হিসাব আরও বাড়বে। কারণ আগামী অর্থ বছরেও এই সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে।’

এ বছর বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য না থাকলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘোষিত সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরের বাজেট ঘোষণায় বলা হয়েছিল, প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেন, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা যে কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে কর্তৃপক্ষসহ কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। একই সময় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে, ওই বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর দিলে, আয়করসহ কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না।

দেশীয় বিনিয়োগ চাঙা করতে সরকার এই সহজ সুযোগ দিচ্ছে বলে জানা যায়। এই সুযোগ ২০২৪ সালা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: