Bangladesh News Network

উত্তর কোরিয়াতে এক কেজি কলার দাম ৩৮০০ টাকা

খাদ্য সংকটে উত্তর কোরিয়া

0 5,302

৩১ বছর পর উত্তর কোরিয়াতে আকাশ ছুঁয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের দাম। এক কেজি কলা সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ মার্কিন ডলারে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৮০০ টাকা। ভয়ঙ্করভাবে বেড়েছে চা-কফির দামও। রাজধানী পিয়ং ইয়াংয়ে এক কেজি চা পাতার দাম উঠেছে ৫ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। কফির প্রতি কেজির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫০০ টাকা।

উত্তর কোরিয়া কঠোর গোপনীয়তায় ঢাকা এক রাষ্ট্র। সেখান থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া খুবই কঠিন কাজ। এ অবস্থায় এশিয়া প্রেস নামের একটি ওয়েবসাইট উত্তর কোরিয়ার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে পাচার করা কিছু ফোনের মাধ্যমে। সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা তাদের খবর অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর দাম দ্রুত বাড়তে থাকে জুনের মাঝামাঝিতে।

উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন অবশ্য মেনে নিয়েছেন যে, তার দেশে চরম খাদ্যাভাব চলছে। সম্প্রতি একটি বৈঠকে কিম স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় খাবারের জোগান খুব খারাপ জায়গায় পৌঁছছে।’

গত কয়েক মাস ধরেই উত্তর কোরিয়ার এই খাদ্য সঙ্কটের পরিস্থিতি বিপজ্জনক জায়গায় যাচ্ছিল। কিছু দিন আগে জাতিসংঘের রিপোর্টেও বলা হয়েছিল, কম করে ৮ লক্ষ ৬০ হাজার টন খাদ্য শস্যের সঙ্কট রয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। সেই রিপোর্টের পর মাস কয়েক কেটে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এর মধ্যে খাদ্যের অভাব আরো বেড়েছে। কিম সেই আশঙ্কাতেই সিলমোহর দিলেন সাম্প্রতিক বক্তব্যে।

বিদেশি গণমাধ্যমগুলোর খবর থেকে জানা গেছে, খাবার, সার এবং জ্বালানির জন্য চিনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে উত্তর কোরিয়া। সীমান্ত বন্ধ থাকায় চিন থেকে জোগানও বন্ধ। প্রতি বছর যেখানে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারের আমদানি হয়, তা এ বছর এসে ঠেকেছে ৫০ কোটিতে। সারের অভাবে উত্তর কোরিয়ার কৃষি জমিগুলোর অবস্থা এতটাই বেহাল যে, কিমের সরকার কৃষকদের প্রতিদিন ২ লিটার করে মূত্র দেয়ার করার নির্দেশ দিয়েছে। যাতে তা দিয়ে সার বানানো যেতে পারে।

এদিকে সীমান্ত বন্ধ থাকায় উত্তর কোরিয়ার খাদ্য ত্রাণ পেতেও সমস্যা হচ্ছে। এই খাদ্য ত্রাণ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে। উত্তর কোরিয়াকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য দেয় চীন। কিন্তু কোভিড প্যানডেমিক শুরু হওয়ার পর চীন হতে উত্তর কোরিয়ায় খাদ্য রপ্তানি ৮০ শতাংশ কমে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, গত দশকে দাতাদেশগুলো হতে উত্তর কোরিয়ায় যথেষ্ট ত্রাণ সাহায্য যায়নি।

এর আগে ১৯৯০ সালে যখন উত্তর কোরিয়া চরম দুর্ভিক্ষের মধ্যে দিয়ে যায়। ওই দুর্ভিক্ষে কত লোকের মৃত্যু হয়েছিল তার কোনো সরকারি হিসেব সামনে আনা হয়নি। তবে বেসরকারি মতে কম করেও ৩০ লক্ষ মানুষ সেসময় না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছিলেন। আবারো সেই পরিস্থিতি হতে পারে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: