আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ শেষ সপ্তাহে আসছে

0
179

মাসের শেষ সপ্তাহে আসছে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ। এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশা পড়ার আভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সারাদেশে গড় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও এখনো শীতের তীব্রতা আছে। উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলেও শৈত্যপ্রবাহ আছে।

কুড়িগ্রামে গত দু’দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। সোমবার সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে কাজে বের হতে পারছেন না শ্রমজীবীরা। রয়েছে শীত বস্ত্রের অভাব।

একই অবস্থা লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়েও। ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগে কষ্ট পাচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেই রয়েছে। সোমবার সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। গোপালগঞ্জ, সীতাকুন্ড, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল, তেঁতুলিয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোনো কোনো স্থানে এর পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

উত্তরের বাতাসের কারণে ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে বেশি। ঘন কুয়াশার কারণে রাতে ও সকালে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন উপকূলীয় এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উপ মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ বিহার ও এর কাছাকাছি পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এদিকে, শৈত্য প্রবাহের কারণে সারাদেশেই শীতজনিত রোগবালাই বাড়ছে। শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভীর লেগে আছে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। আবার হাসপাতালের ঠাসাঠাসিতেও রোগীরাও পাচ্ছেননা সুচিকিৎসা। গরম কাপড় আর তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

তাপমাত্রা কমবেশি হলেও শৈত্য প্রবাহের জের টানছে বয়স্ক ও শিশুরা। দেশের বেশিরভাগ হাসপাতাল এখন বয়স্ক আর শিশু রোগীতে পরিপূর্ণ। বেশিরভাগই ভুগছেন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বরসর্দি, শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে।

খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালে এ মাসের প্রথম ১৪ দিনে ভর্তি হয়েছে ৩১৭ জন। এর মধ্যে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছে এক শিশু।

একই অবস্থা রাজশাহী বিভাগের বেশিরভাগ জেলাতেও। এছাড়া রংপুর পঞ্চগড়েও বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

এছাড়া ফেনী, লক্ষ্মীপুরেও বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। গরম কাপড়ের অভাবে ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে বেশিরভাগ রোগীদের। তীব্র শীত নিবারণে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।

এদিকে শীতে আগুন পোহাতে গিয়েও দগ্ধ হচ্ছেন অনেকে। আগুনে পুড়ে মারা যাবারও ঘঠনা ঘটেছে অনেক জায়গায়। গত ৫দিন দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেলেই ভর্তি হয়েছেন ৫জন।

বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।