আমাদের সমুদ্রের অফুরন্ত সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা

0
87

বিএনএন টিভি, ন্যাশনাল ডেস্কঃ

আমাদের সাগরে অফুরন্ত সম্পদ রয়েছে। এগুলো কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেজন্য এখনই মহাপরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। বিশ্ব সমুদ্র দিবসের আলোচনায় এমন বক্তব্য তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাগর সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন সেভ আওয়ার সি আয়োজিত ভার্চুয়ার আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেভ আওয়ার সি’র সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক।

প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালিত হয়। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরিওতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে দিবসটি পালনের প্রস্তাব করে কানাডা। ২০০৪ সাল থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘টেকসই সমুদ্রের জন্য উদ্ভাবন’। অর্থাৎ উদ্ভাবনী কর্ম উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ করা।

এ প্রসঙ্গে আলোচনায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা সেভ আওয়ার সি’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুজ্জামান খান বলেন, সাগরের সঙ্গে সহাবস্থান করেই আমাদের টিকে থাকতে হবে। এই সহাবস্থানের জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবন। উপকূলে বিভিন্ন দ্বীপ সুরক্ষায় বাঁধ দেয়া কার্যকর কোনো সমাধান হবে না, বরং সব অঞ্চলে লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান, মাছ থেকে শুরু করে জীবন ধারণের অন্যান্য উপকরণ উদ্ভাবন করতে হবে। সমুদ্রকে ঠেকাতে বাঁধ তৈরিতে যত না অর্থ ব্যয় হয়, তার চেয়ে অনেক কম অর্থ ব্যয় হবে এসব উদ্ভাবনে।

তিনি বলেন, এসডিজি’র ১৪ নম্বর লক্ষ্যতে সাগরের কথা, সমুদ্র অর্থনীতির কথা বলা আছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল ও সমুদ্রজুড়ে বহু সম্পদ আছে। নানা কারণে সমুদ্রের অভ্যন্তরণে ও সমুদ্র সংলগ্ন এলাকার জীব বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।
চট্টগ্রাম মৎস অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ শুধু মাছ নয়, এর বাইরেও আরো অনেক সম্পদ আছে।

এসব সম্পদ কোথায় কোথায় আছে, কী পরিমাণে আছে এবং এগুলোর ব্যবহার কীভাবে করতে হবে- সে লক্ষ্যে গবেষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ওসানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. শরিফ। এই গবেষণা করতে পারলে সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, সম্পদের সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তবে সমুদ্র প্রশ্নে এখনো আমাদের অদূরদর্শিতার অভাব আছে।

ড. আনিসুজ্জামান খান বলেন, এসডিজিতে লাইফ বিলো ওয়াটারের কথা বলা হলেও আমরা জানি না সমুদ্রের নীচের পরিস্থিতি কী। সমুদ্রতলের পরিবেশ দেখার জন্য দক্ষ ডুবুরি প্রয়োজন। এজন্য দরকার প্রয়োজনীয় জাহাজ ও সরঞ্জাম।
আলোচকরা বলেন, মেরিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঢাকা কিংবা অন্য জেলায় না করে সাগর তীরে করা উচিত।

সমুদ্রতলের পরিবেশ কতটা ভালো তা নিশ্চিত করে প্রবাল-এমন তথ্য উল্লেখ করে ওশান এক্সপ্লোরার এসএম আতিকুর রহমান জানান, সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকার প্রবাল এখন ভালো নেই। অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ, প্রতিদিন বড় বড় জাহাজ নোঙ্গর করায় এখনকার পরিবেশ, প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, তার মতে সেন্টমার্টিনকে সুরক্ষায় সেখানে পর্যটক যাওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় অধিবাসীদের কাজে লাগাতে হবে। তবে ওখানকার পর্যটন ব্যবসা হুট করে বন্ধ করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন, জীববৈচিত্র্য গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আল মোজাদ্দেদি আল আফসানি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক এস কে নাজমুল হুদা বলেন, সেন্টমার্টিনের ছেড়া দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় তাদের দফতর একটি জোন চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছে। পাহাড় কাটা বন্ধ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের দূষণ বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্লাস্টিকের দূষণ রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হচ্ছে। এছাড়া জাহাজগুলো থেকে দূষণ বন্ধে বড় অংকের জরিমানা করা হচ্ছে।

সমুদ্রের পরিবেশকে সুরক্ষা দিয়ে এর সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের কথা তুলে ধরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিণ আক্তার। তিনি বলেন, অধিক হারে ও অপরিকল্পিত মাছ ধরার ফলে সমুদ্রের মৎস সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে। এটা রোধ করতে হবে। পাশাপাশি সমুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কৌশল রপ্ত করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ বিষয়ে পরিবেশ সম্মত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান গ্রিণ টেক এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, পানিতে ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপনে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে তারা কাজ করছেন।