আইসল্যান্ডকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত !

0
44

ইউরোপের দেশ আইসল্যান্ডকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত হওয়ার অনেক কিছুই আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুরে দ্বীপরাষ্ট্রটি সম্পদশালী। বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও তারা অসাধারণ নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের ব্যাপকহারে পরীক্ষা করোনার প্রাদুর্ভাব রোধের চাবিকাঠি হতে পারে। এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আসল চিত্রটা ধরা সম্ভব। ৩৬ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপ রাষ্ট্র আইসল্যান্ড ঠিক সেই কাজটিই করছে। তারা তাদের সব নাগরিকের করোনা পরীক্ষা করাবে।

করোনার তাণ্ডবে লকডাউনে যেতে বাধ্য হয়েছে এশিয়া এবং ইউরোপের বহু দেশ। সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে নাগরিকের ঘরে রাখার মাধ্যমে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন অবস্থার মধ্যে ব্যতিক্রম আইসল্যান্ড। তারা কোনো ধরণের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। লোকসমাগমেও তেমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। শুধুমাত্র ১শ’ জনের বেশি মানুষকে একত্রিত হতে নিষেধ করা হচ্ছে। এর বাইরে দেশটিতে সেকেন্ডারি এবং টারশিয়ারি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, এর বেশি কড়াকড়ির দরকার নেই সেখানে। কারণ, ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার রোধে ট্রাকিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য তাদের আছে এবং এর জন্য বেশ ভালোভাবেই প্রস্তুত তারা।

গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে আইসল্যান্ড নাগরিকদের করোনা পরীক্ষা শুরু করে। এর কিছুদিন পরেই দেশটিতে করোনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগণের করোনা পরীক্ষা করবে বায়োফার্মা কোম্পানি ডিকোড জেনেটিক্স। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা কেরি স্টেফানসন বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে আক্রান্তদের এবং সন্দেহভাজনদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছে।

সরকারি তথ্যের বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ৯২৭ জন নাগরিককে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এর বাইরে ৫ হাজারের অধিক মানুষ কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

তিনি বলেন, আমরা যে তুলনামূলক ভালো করছি এর কারণ হল- আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। চীনের ছড়িয়ে পড়ার খবরটাকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলাম। আমরা এটিকে কখনোই অবজ্ঞা করিনি।

তার মতে, ভাইরাসটি কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে কিনা সেটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অবশ্যই জানতে হবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে আইসল্যান্ড অন্যদের জন্য মডেল হতে পারে। এই ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের বিষয়ে জানার জন্য গবেষকদের সাহায্যও করতে পারে।

অনেকেই বলছেন, সম্পদশালী দেশ আইসল্যান্ডে জনসংখ্যা অনেক কম। আর এ কারণেই তারা তাদের সব নাগরিকদের পরীক্ষা করতে পারবে। তবে স্টেফানসন এক্ষেত্রে একমত নন। তিনি বলেন, এটি আকার কিংবা সংখ্যার বিষয় না। বিষয়টা হল- আপনি প্রাদুর্ভাবের জন্য কতটা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, অনেক উন্নত রাষ্ট্র আছে যারা অনেক আগেই এই ধরণের ভাইরাস পরীক্ষার পদ্ধতি আবিস্কার করেছে। কিন্তু তারা করোনা ভাইরাস নিয়ে শুরুতে এমন ভাব করেছে যেনো কিছুই হয়নি!

মঙ্গলবার পর্যন্ত আইসল্যান্ড তাদের ১৭ হাজার ৯০০ নাগরিকের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ।

যে সকল নাগরিকের শরীরে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে কিংবা যারা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তাদের পরীক্ষা করছে দেশটির ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল। এর বাইরে দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগণের করোনা পরীক্ষা করবে বায়োফার্মা কোম্পানি ডিকোড জেনেটিক্স। যেসকল নাগরিকের মধ্যে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পায়নি কিংবা যারা কোয়ারেন্টাইনে নেই তাদের সবাইকে পরীক্ষা করছে ডিকোড জেনেটিকস।

আর এই কাজ করতে গিয়ে তারা যে ফলাফলটি পেয়েছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যে করোনার লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য মতে, বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এরমধ্যে মারা গেছেন ২ জন।