Bangladesh News Network

অ্যান্টার্কটিকার সবুজায়ন পৃথিবীর জন্য হুমকি

0 6,517

বরফে ঢাকা এ মহাদেশে ২০১৭ সাল থেকে গবেষণা করছে এই ভারতীয় প্রতিনিধিদল। শ্যাওলা জাতীয় এ উদ্ভিদ দেখে তারাও বেশ হোঁচট খেয়েছেন। এই প্রজাতি নিয়ে গবেষণা আর উদ্ভাবন সহজ ছিল না, ৫ বছর গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হতে পারেন যে, এটি অ্যান্টার্কটিকায় উদ্ভিদের নতুন প্রজাতি। আন্তর্জাতিক জার্নাল, জার্নাল অব এশিয়া প্যাসিফিক বায়োডাইভারসিটি’তে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব পাঞ্জাবের জীব বিজ্ঞানীরা নতুন এ প্রজাতির নাম দেন ব্রায়াম ভারাতিয়েনসিস। ভারতী হিন্দু দেবতার নাম আর এই নামেই অ্যান্টার্কটিকায় ভারতের গবেষণা কেন্দ্রটি স্থাপন করা।

বরফে ঘেরা অ্যান্টার্কটিকায় সবুজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই ভার। সাদা শুভ্র বরফে খুব কম প্রজাতির প্রাণি আর উদ্ভিদ টিকে থাকতে পারে। সম্প্রতি অ্যান্টার্কটিকায় নতুন প্রজাতির উদ্ভিদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিকায় নতুন এ উদ্ভিদ আবিষ্কার করেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালে এই মহাদেশে ৬ মাসের গবেষণার পর লার্সেমান পাহাড়ে একটি গাঢ় সবুজ প্রজাতি পাওয়া যায়, ভারতি স্টেশনের সামনে। এ স্টেশনটি বিশ্বের দূরবর্তী স্টেশনগুলোর একটি। জন্ম নিয়ে বেড়ে ওঠার জন্য উদ্ভিদের প্রয়োজন, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সূর্যের আলো আর পানি। অথচ অ্যান্টার্কটিকার মাত্র ১ ভাগ স্থানে বরফ নেই। প্রশ্ন হলো, পাথর আর বরফের মাঝে এই শ্যাওলা কিভাবে জন্ম নিলো আর বেঁচে রইলো?

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন, অ্যান্টার্কটিকার স্থায়ী প্রাণি পেঙ্গু্ইন যেখানে ডিম পাড়ে আর বাচ্চা বড় করে, সেখানেই এ উদ্ভিদ বেশি জন্ম নিয়েছে। কারণ পেঙ্গুইনের বিষ্ঠায় আছে নাইট্রোজেন। তবে এ উদ্ভিদ সূর্যালোক কোথায় পায়, সেটা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। কারণ শীতকালের ৬ মাস এখানকার সবকিছু পুরু বরফের স্তরে ঢাকা থাকে। সূর্যালোক তো থাকেই না, তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৭৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেপ্টেম্বরে গ্রীষ্মকালের শুরুতে এ মহাদেশে রোদ আসতে শুরু করে। বরফ গলে যাওয়া থেকেই পানি সংগ্রহ করে শ্যাওলাগুলো।

বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক, ঠান্ডা আর বায়ুসমৃদ্ধ মহাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ প্রজাতির উদ্ভিদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি এটি। বিজ্ঞানীরা জানান, এ মহাদেশে গবেষণা পরিচালনা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, কিভাবে গ্লেসিয়ার গলছে। অ্যান্টার্কটিকা সবুজ ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। অনেক ধরনের তাপমাত্রার উদ্ভিদ যেগুলো আগে এই বরফের মহাদেশে টিকে থাকতে পারতো না, সেগুলো এখন মহাদেশের কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে কারণ এ মহাদেশ আগের মতো শীতল নেই। বিজ্ঞানীরা জানান, অ্যান্টার্কটিকার সবুজায়ন পৃথিবীর জন্য হুমকি।

কেউ জানে না, পুরু বরফের নিচে কি আছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বরফ গলে গেলে আরও উদ্ভিদ বেরিয়ে আসতে পারে। স্টেশন স্থাপনের ৪০ বছর পর এই উদ্ভিদের প্রজাতি আবিষ্কার করেছে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।

Comments
Loading...
%d bloggers like this: