Bangladesh News Network

অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব

0 3,641

দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলকর গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী রেসমিনার প্রসব ব্যথা উঠলে দিরাইয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। পরে ডাক্তারের পরামর্শে রেসমিনাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য মিড ওয়াইফের কাছে নিয়ে যান রুবেল মিয়া।

সেখানে কর্তব্যরত মিড ওয়াইফ শিপ্রা রানী দাস বলেন, ‘আমি আরেকজন প্রসূতি মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছিলাম। ওই প্রসূতি মাকে সিটে বসে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম।

কিন্তু রেসমিনার স্বামী অপেক্ষা না করেই তাকে নিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। পরে জানতে পারি তারা সিলেটে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিলেন।

কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই ওই প্রসূতি মা সন্তান প্রসব করেন। তার স্বামী হাসপাতাল থেকে কোনো রকমের চিকিৎসার কাগজপত্র না নিয়ে এমনকি রেফার্ডের কাগজ না নিয়ে নিজ উদ্যোগে সব করেন। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি নেই। অযথা এখন দোষারোপ করছেন তারা।’

অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব করলেন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের রেসমিনা বেগম (২৪) নামে এক প্রসূতি মা। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে প্রধান ফটক সংলগ্ন দিরাই রেজিস্টার অফিসের বারান্দায় তিনি সন্তান প্রসব করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. বিদ্যুৎ রঞ্জন দাস বলেন, ‘আমি সকালে জরুরি বিভাগে ডিউটিতে ছিলাম। আমার কাছে রেসমিনা নামে কোনো রোগী জরুরি বিভাগে আসেনি।’

রেসমিনার স্বামী রুবেল মিয়া (৩০) বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে আমরা তাৎক্ষণিক দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।

সেখানে ডাক্তার না পেয়ে প্রাইভেট চিকিৎসা করাই। পরে প্রাইভেট ডাক্তারের কথায় আবার হাসপাতালে আসি। সেখানে এলে আমার স্ত্রীকে যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই সিলেট নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ধাত্রী।

আমরা অনেকটা নিরুপায় হয়ে হাসপাতাল থেকে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হলে হাসপাতালের প্রধান ফটকের কিছু দূরে গাড়ির পাশে গেলে প্রসবের ব্যথা বেড়ে যায়।

পরে রাস্তার পাশে একটি অফিসের বারান্দায় নবজাতকের জন্ম হয়। বর্তমানে মা এবং নবজাতক মেয়ে সুস্থ আছেন। আমার কাছে দিরাই হাসপাতালের কোনো কাগজ নেই, তবে প্রাইভেট ডাক্তারের কাগজ আছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাধীন কুমার দাস বলেন, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসক কে ছিল আমার জানা নেই, আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে গুরুত্বসহকারে দেখছি।’

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন মো শামছ উদ্দিন বলেন, ‘রেসমিনাকে দিরাইয়ে একটি প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার দেখান স্বামী।

ওই ডাক্তার তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরামর্শ দেন। তারপর তিনি ভর্তির প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং জরুরি বিভাগের কোনো ডাক্তারকে না দেখিয়েই কাগজপত্র ছাড়া মিড ওয়াইফের কাছে চলে যান।’

Comments
Loading...
%d bloggers like this: